travelPlanning

ট্রাভেল প্লানিং নিজগুনে অভূতপূর্ব এবং বিপর্যস্ত্যকারী এক্সপেরিয়েন্স। এক অজানা শহরের অ্যাকমোডেশন্‌ বুকিংয়ের ভালো খারাপ দিক জানা, বিচার বিবেচনা করা, এক ধরনের লার্নিং কার্ভের মত। অবশ্যই অনেকের ক্ষেত্রে ট্রাভেল এজেন্ট এখনো একটি সহজ মাধ্যম, তবে বর্তমান সময়ে অনলাইন বুকিংয়ের জনপ্রিয়তার দরুন অনেকেই DIY প্লানিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে ট্রাভেল এজেন্ট পুরাতন মনে হলেও কোন স্থানের সম্বন্ধে পরামর্শ অথবা ডিসকাউন্টেড ডীলের জন্য এখনো এক জনপ্রিয় ঠিকানা।

আমার কথা যদি বলি, নিজ হাতে ট্রাভেল প্লান করা, নিজের রাস্তা নিজে ঠিক করা, এটা আমার কাছে সবথেকে বেশী আকর্ষনীয়; নাকি কোন ট্রাভেল এজেন্টের পুর্ব-নির্ধারিত এবং নির্দিষ্ট পথে ভ্রমন করা। কোন একটা ট্রিপের আগে তার সম্বন্ধে রিসার্চ করা, ট্রিপের মতই আনন্দদায়ক! মজার কথা হচ্ছে ট্রাভেলের ছুটিটাই কিছুতা ম্লান মনে হতে পারে যেই প্লানিং শেষ হয়ে যায় 😉

যদি নিজে বুকিং/প্লানিং করতেই হয়, তবে তার নিয়মও খুব বেশী জটিল নয়! যেমন, সবার প্রথম ‘দিন’ ঠিক করা কখন যাওয়া এবং কখন ফেরা, তারপর ট্রান্সপোর্টের বুকিং দেখা; ট্রান্সপোর্টের বুকিংয়েরও আগেও দেখে নিন সেই সময়ে কোন বড় ইভেন্টের সম্ভবনা আছে কিনা, তাকে ঘিরে অ্যাকমোডেশনে্‌র অপ্রতুলতার সম্ভবনা আছে কিনা। তারপর ট্রান্সপোর্টেশনের বুকিং শুরু করুন, দরকার পড়লে তারপরেই অ্যাকমোডেশনে্‌র বুকিং করে নিন। ট্রেনের টিকিটের ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন বেড়াতে যাবার ১২০ দিন আগে ট্রেনের টিকিট বুক করে নিতে। তারপরে নিজের ভ্রমন ইচ্ছা গুলোকে ভাগ করে নিন, দিন, থাকা, ইন-স্টেট ট্রান্সপোর্টেশনে্‌র হিসাবে। সঙ্গে দরকারী প্রি-বুকিং এবং must-do-activities এগুলোরও রিসার্চ চলতে পারে! মনে রাখবেন এখন বেড়াতে গেলে সঙ্গে সচিত্র পরিচয় পত্র রাখাটা বাধ্যতামূলক।

budgetPlanning

বেড়ানোর প্ল্যান বাজেট প্ল্যান বিনা সম্পূর্ন নয়। কোথাও বেড়াতে যাবার ঠিক করার পরেই বাজেট প্ল্যানও এসে যায় যার ওপর নির্ভর করে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো – ট্রেন/ফ্লাইট, হোটেল এবং অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচাপত্তর। সঙ্গে পুরো টাকা নেয়ার থেকে চেষ্টা করুন অনলাইন ব্যাঙ্কিং, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও খরচা করতে। আজকাল মোটামুটি সব জায়গাতেই ATM আউটলেট পেয়ে যাবেন। খরচা কমাতে পিক সিজন এড়িয়ে ঘোরাই ভালো। এক্ষেত্রে কোথায় কোন সময়ে কোন ফেস্টিভল বা ইভেন্টের সম্ভবনা আছে কিনা জেনে নিন।

hotelBooking

বেড়ানোর ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হোটেল বুকিং। চেষ্টা করবেন যোগাযোগের সুবিধার্থে এমন একটা জায়গায় থাকতে যেখান থেকে ট্রান্সপোর্টেশন, দোকান-পাট ইত্যাদির সুবিধা হয়। তবে অনেকেই এখন অফ্‌বিট ট্রাভেলের ক্ষেত্রে একটু ভিড়ভাড়হীন জায়গায় থাকতে পছন্দ করেন যা মূল লোকালিটি থেকে একটু বেরিয়ে হয়, কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখতে চাইবেন ট্রান্সপোর্টেশনের যেন সুবিধা থাকে। নিরিবিলি জায়গার ক্ষেত্রে আগে থেকে একটু জেনেও নেবেন। দালালদের কথামত হোটেল বুক করবেন না। স্থানীয় কিছু মানুষ, রিক্সা চালক, অটো চালক, ট্যাক্সি ড্রাইভার, এঁরাই সাধারনতঃ হোটেল দালাল হিসাবে কাজ করে। বেশীরভাগ সময়ে পর্যটকরা ভোগান্তির শিকারই হন এঁদের থেকে। যে হোটেলে উঠবেন জেনে নিন তার ঘরের কন্ডিসন এবং অন্যান্য সুবিধাগুলো সম্বন্ধে। হোটেলের ফোন নাম্বার, ঠিকানা অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন।

জেনে নিন কোন অকেশন বা ইভেন্টের সম্ভবনার কথা। সাধারনতঃ এই রকম সময়ে পর্যটকেদের ভিড় বেড়ে যায়। সিজনে বেড়াতে গেলে ভিড় এড়াতে আগে থেকেই বুকিং করে নিন। এখন সারাদেশে বুকিং ইন্টারনেটের মাধ্যমেই খুবই সত্বর হয়ে যাওয়া সম্ভব। বুকিং-এর পর আরও নিশ্চিন্ত হতে হোটেলের রিসেপসনে ফোন করে কনফার্ম করতে পারেন আপনার বুকিং সেখানে পৌঁচেছে কিনা। হোটেলের চেক ইন এবং চেক আউটের সময় অবশ্যই জেনে নেবেন।

luggage

জিনিষ যতটা হালকা রাখতে পারবেন ততটাই ভালো, কারন বইতেও হয়তো আপনাকেই হতে পারে। মনে রাখবেন কুলী সবসময় পাওয়া নাও যেতে পারে। জিনিষের বোঝা বেশী হলে সেগুলো সামলানোর হ্যাপা যেমন এসে যায়, তেমনি ঘোরার আনন্দও কিছুটা ফিকে করে দিতে পারে। তাই চেষ্টা করবেন একমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিষ ছাড়া লাগেজ ভারি না করতে। কিছু ফার্স্ট-এইড কিট অবশ্যই সাথে রাখবেন, সঙ্গে দরকারী ওষুধপত্র। বেশী দামি জিনিষ, গয়নাগাটি নিয়ে বেড়াতে না যাওয়াই ভালো। অনেক স্ট্যানার্ড হোটেলে এখন লকারের ব্যাবস্থাও রাখে, খোঁজ নিয়ে রাখতে পারেন।

foodNDrinks

স্বচ্ছ দেখালেও কিছু জায়গার পানীয় জল কিন্তু ভাল মানের নাও হতে পারে, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের। সেক্ষেত্রে সাথে জল পরিশোধক ওষুধ রাখা ভালো। মিনারেল ওয়াটারও ব্যাবহার করতে পারেন যদি সেটার সুবিধা থাকে। অবশ্যই বেড়াতে গিয়ে পেটের প্রবলেম চাইবেন না। জল বাদ দিয়ে অন্যান্য খাওয়া-দাওয়াও চেষ্টা করবেন স্বাস্থ্যকর জায়গা থেকে খেতে এবং অকারনে শরীর খারাপের ঝুঁকির মুখে না পড়তে। বেড়াতে বেড়িয়ে যথেষ্ট শারীরিক পরিশ্রমও হয়, তাই চেষ্টা করবেন হালকা খাবারের দিকে যেতে, এবং খুব মশলাদার না খেতে। তবে অবশ্যই জায়গা বিশেষে সেখানকার বিখ্যাত খাবার-দাবার চাখতে ভুলবেন না! পাহাড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মধ্যে মধ্যে চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব গরম জল খাওয়া যায়, সে চা বা এমনি গরম জল যেরমই হোক না।

travelWithCare

নিরপত্তার বিষয়টাকে বাদ দিকে ভ্রমন না করাই ভালো। বেড়ানোর সাথে সাথে নিরপত্তার বিষয়টাও মাথায় রাখা উচিত। যেখানে গাইডের প্রয়োজন সেখানে গাইডকে অমান্য করে কোন কিছু করতে যাবেন না। যদি নিয়মের বাইরে কোন কিছু করার ইচ্ছা হয়, পরামর্শ নিন আপনার গাইডের থেকে। মনে রাখবেন কোন একটা স্থান সম্বন্ধে আপনার থেকে আপনার গাইডই কিন্তু বেশী জ্ঞান রাখতে পারে। সবসময় অনুমোদিত গাইড-ই নেবেন, অনুমোদিত গাইডদের অভিজ্ঞতা বিষয়ে কিন্তু কোন গ্যারান্টী পাবেন না।

অচেনা জায়গায় বিশ্বাসযোগ্য মানুষ বিনা বেশী রাতে ঘোরাঘুরি না করাই ভালো। দ্রষ্টব্য জায়গাগুলি দেখার সময় অযথা সময় নষ্ট করবেন না, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ে সব দ্রষ্টব্য দেখা হয়ে উঠবে না। সময়ানুবর্তীতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ঘোরার ক্ষেত্রে। ট্রেন, বাস ইত্যাদিও সেই সময়ানুবর্তীতার মধ্যেই পড়ে। লম্বা সফরসূচী হলে মাঝে দু-একদিন বিশ্রামের জন্য রাখবেন।

কোন বিশেষ জায়গার যদি কিছু বিধি-নিষেধ থাকে তাকে সম্মান দেয়ার চেষ্টা করবেন। অকারনে নিজের জেদ রাখার জন্যে নিয়ম অমান্য করে কিছু করতে যাবেন না। এতে যেমন আপনার প্রতিচ্ছবি নষ্ট হবে তেমনি সেই জায়গাকে অসম্মানও করা হবে। বেড়ানোর ক্ষেত্রে দালালদের এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করবেন। বেশীরভাগ সময়ে তারা দামের তুলনায় নিকৃষ্ট জিনিষটাই তুলে দেবার চেষ্টা করে।


Thanks to LongJourney for some nice tips!