Author: theBongTraveler

বন্ধুরা, আমি শান্তনু কাঁড়ার, এই ট্রাভেল ব্লগের “বং”। পেশায় আমি একজন সফটওয়ার প্রফেশনাল, উৎসাহী ফোটোগ্রাফার ইচ্ছাতে, আর একজন ট্রাভেলার অন্তর থেকে। এমনিতে আমার না আছে কোন অভিজ্ঞতা ব্লগ লেখার না দক্ষতা গল্প বলবার। কিন্ত রাস্তার এমন অনেক অভিজ্ঞতা থেকে যায় যা ভুলতে মন চায় না আবার কাউকে বলে যেতেও ইচ্ছা করে। আমার কলম ধরে নেওয়া সেই কারনেই। আর যেহেতু অনভিজ্ঞ, ভুল ক্ষমা প্রার্থনীয়। যেরম বলে লোকেরা, নক্ষত্রেরা ভুল করে না, আমরা করি। আপনাদের প্রস্তাব ও পরামর্শের অপেক্ষা রইল। আমি আশা রাখব আমার এই সব অভিজ্ঞতা যা আমার পাথেয়, আপনাদেরও ভালো লাগবে এবং আপনাদের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করবেন! আমার সাথে যোগাযোগের জন্যে আমাকে মেইল করতে পারেন এখানে। অথবা আমার ফেসবুক পেজ!

Photologue: Murti – I

ডুয়ার্সের গরুমারা ন্যাশনাল পার্কের নিকটবর্তী হিমালয়ের পাদদেশের ছোট্ট প্রাকৃতিক শোভাবেষ্টিত অঞ্চল মুর্তি। মুর্তির নামকরন এখানকার মুর্তি নদীর নামানুসারে। এখানকার সৌন্দর্য্য এখানের ঘন জঙ্গল, বন্য প্রানী, এখানের চক্‌চকে্‌ নদীর জল এবং সরলমনা মানুষের জন্যই হয়ে আছে। মুর্তির পরিষ্কার হাওয়া, দূষনমুক্ত পরিবেশ, অনাবিল নিস্তব্ধতা যেকোন ভ্রমন-পিপাসু মানুষকেই কাছে টানবে। শহরের জ্যামজটের থেকে দূর কিছুদিনের অগোচর জীবনযাপন, যেকোন মানুষকেই স্বস্তির নিশ্বাস দেবে।

Photologue: Sandakphu – VI

গুরদুমের পরবর্তী দিন, আরো নিচে নামার পালা, এদিনের গন্তব্য শ্রীখোলা (যদিও দূরত্ব অনেক কম, ৬ কিমি)। সকাল হতে ধীরে সুস্থে আমরা পাড়ি দিলাম। কোন তাড়া ছিল না এদিন, কম দূরত্বের জন্যে। আগের দিনের ক্লান্তি এখন অনেক হালকা হলেও পাহাড়ি পথের চড়াই ওতরাই পায়ের মাংসপেশীর মধ্যে আবার টান দিতে শুরু করল। তবে আগের দিনের মত মুহূর্মুহূ ভাঙা ওতরাই এদিনে আর তেমন ছিল না। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন ছোট ছোট নেমে আসা ঝর্ণাকে পাশে রেখে, নানান গাছগাছালি সম্বন্ধে জানতে জানতে সকলেই মোটামুটি খোস মেজাজেই এগিয়ে চললাম। পিটারের মাঝে মধ্যেই সাবধানবানী আমাদের আরো পথ চলতে সাহায্য করছিল – বসবেন না, বসবেন না চলতে থাকুন – বসলেই আরো কষ্ট হবে হাঁটতে। এবং একটা সময়ে (দুপুরের আগেই!) আমরা গিয়ে পৌঁছলাম আমাদের গন্তব্য শ্রীখোলায়। অস্বীকার করব না, হঠাত চলে আসায় কেমন একটু আশাহত হলাম। শরীর এবং মন যেন তৈরী হয়ে ছিল আরো চলবার জন্য, আরো একটু কষ্ট করার জন্যে। নিজেদের ঝোলাঝুলি ফেলে আমরা বেরিয়ে পড়লুম আশেপাশে সন্ধানী চোখে, কিছু সন্ধানের আশায় (অবশ্যই এই ক্ষেত্রে এখানের প্রাকৃতিক রূপরেখা)। অদুরবর্তী একটি ঝোলা ব্রিজ। মনটা বড়ই আলহাদিত হয়ে গেল (বলতে পারি) ঃ) দুপুরের খাওয়া …

Photologue: Sandakphu – V

সকালে ঘুমটা যে একটা ভালো ভাঙল তা বলব না, তবে বেটার বোধ করছিলাম আগের রাতের থেকে। আমার প্রতিবেশীকে দেখলাম না, বোধহয় বেরিয়ে পড়েছে সকাল সকাল। ঘরের একমাত্র জানলা প্ল্যাস্টিক দিয়ে ঢাকা থাকায় বাইরেটা ঠিক বুঝলাম না, তবে রাতের সেই ঝড়ের দাপট আর নেই, শান্ত এবং ঠান্ডা। পেটের টান থাকায় আমি প্রাতঃকর্মের জন্য বেরিয়ে এলাম। লম্বা করিডরটা নিস্তব্ধ, পরিত্যক্ত। লোকজন এখনও সেভাবে ওঠেনি, অথবা যে যার খোলের মধ্যে এখনও আস্তানা নিয়ে আছে। করিডরের ঘষা প্ল্যাস্টিকের বারান্দা দিয়ে আলো এসে পড়ছে, করিডরটাকে যেন আরো মলিন আর একাকী করে তুলেছে। শমীকরা এখনও ওঠেনি। বাথরুমটা ছিল ঢোকার রাস্তার দিকে, আমি নিজেকে কোনরকমে গুটিয়ে এগিয়ে চললাম তার দিকে।

Photologue: Sandakphu – IV

আমি অ্যাকাউন্টস, অয়ন রুম ম্যানেজার এবং খাবারের অর্ডার, শমীক সকালের অ্যালার্ম এবং জল পরীক্ষক (basically Ziolin ছাড়া জলের পরিপন্থী) – মোটামুটি এই হয়ে গেছে আমাদের এখনকার রোল, সবার। তো এবারেও তার কিছু পরিবর্তন হল না, শমীক সকাল সকালি তুলে দিল আমাদের দু’জনকে। কম্বল ছেড়ে বেরিয়ে আসাটা প্রবলেম হয়ে গেছিল এমন ভোরে।

Photologue: Sandakphu – III

05.21.2011 সকালে আমরা একটু দেরী করেই উঠলাম। আগের রাতে পিটারের সাথে কথা হয়ে গেছিল একটু দেরী করে বেরলেই হবে, ৯টা নাগাদ। তাই সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার তাড়া ছিল না, আর এরম একটা জায়গায় ভোরবেলায় কম্বলমুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকার মত সুখ আর কিছু হ্য় না। এমনকি কম্বলের নিচে থেকে আমার ভোরবেলার ছবি তোলার ইচ্ছাও আমি নিজেই খারিজ করে দিলাম। খুব ভোরে একবার উঠতে হয়েছিল প্রকৃতির টানে, দিনের আলো তখনও ভালো করে ফোটেনি, ঠান্ডায় ঠকঠক করতে করতে দোতলার বাথরুমটা খুঁজে কোনরকমে সেরে আবার সটান এসে কম্বলের তলায় আশ্রয় নিয়েছি। শীতের ঠান্ডায় তক্তপোষও সুমধুর লাগে।