Bodh Gaya, Under the Fear of Corona

ঠিক হয়েছিল দু’মাস আগেই, জানুয়ারির কোন এক সময়ে যাত্রা করার। এবারের গন্তব্য বুদ্ধ গয়া। উত্তর-পূর্ব বিহারে অবস্থিত বুদ্ধ গয়া বিশ্বের অন্যতম কিছু বৌদ্ধিক তীর্থস্থানগুলির মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়। প্রাচীন মহাবোধি মন্দির এবং তার অংশজ মহাবোধি বৃক্ষ যার নীচে স্বয়ং বুদ্ধ বোধি লাভ করেছিলেন, এবং আরো কয়েকটি পবিত্র স্থান সহ বুদ্ধ গয়া।

ভাবনা অনুযায়ী জোগাড়যন্ত্র হয়ে গেছিল, অনলাইন খুঁজে একটা পছন্দসই হোটেলও বুকিং হয়ে গেল। হোটেল ডেল্টা ইন্টারন্যাশনাল, ওয়াট থাই বুদ্ধভূমির পাশেই খোলামেলা একটা হোটেল। দিন ঠিক হল জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের শুক্রবার।

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই জোর পেতে শুরু করেছিল চীন সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা COVID-19 বা Wuhan Virus এর আতঙ্ক। দিনে দিনে যার দ্বিগুণ থেকে তিনগুন সংক্রমন উদ্বেকের সৃষ্টি করেছিল এপারেও, যদিও ভারতে তখনও কোন সংক্রমনের খবর আসেনি কিন্তু অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার খবর আসতে শুরু করেছিল। এ দেশে চাইনীজ ভিসা খারিজের সাথে সাথে বিভিন্ন এ্যাডভাইসারি জারি করা হয়েছিল বিদেশ ভ্রমনের জন্য, যেমন কি কি করা উচিত আর কি না ইত্যাদি ব্যাপারে। চীন ফেরত দেশী/বিদেশী এবং অন্যান্য সংক্রমক দেশ থেকে আসা বিদেশীদের সম্পর্কেও প্রশাসন সতর্ক হয়ে উঠেছিল। সেই নিরীখে বুদ্ধ গয়া যেমন ভিনদেশীয় ভক্তদের এক পীঠস্থান, তেমনি সেইসব দেশগুলির মধ্যে এশিয়াটিক দেশের সংখ্যাই বেশি যাদের থেকে সংক্রমনের খবর আসতে শুরু করেছিল, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি। এদেশিও থেকে কিছুটা বিদেশীয় তীর্থস্থানই বেশি বলা চলে। আমাদের যাত্রার সময়ও ধ্যার্য হয়েছিল যখন চীনে এই ব্যাধির সংক্রমন চূড়ান্তে।

কিছুটা দোনোমোনোর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যাত্রার। তাছাড়া অপেক্ষাও করে ছিলাম অনেকদিনই, তাই এত সামনে এসে ভেস্তে দেয়ার মনও চাইল না। যদিও সংক্রমনের ভয় রইলই। অতঃপর কিছু নিয়মকে সঙ্গ করে আর একটা ভয়কে ঘাড়ে নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। মাঝে থাকল লম্বা বোরিং সফর আর রাস্তা, যদিও ড্রাইভিং আমার নেশা কিন্তু রাস্তার রসকস্‌হীনতায় সেটাও ফ্যাকাশে লাগতে লাগল একসময়।

এ রাস্তাতে আমি আগেও এসেছি। মূলতঃ পুরুলিয়া, গরপঞ্চকোট ইত্যাদি যা বাংলার সীমানা পর্য্যন্ত। কিন্তু এবারে বাংলার সীমান্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসা, এবং তারপরেই খুব ধাক্কা খেলাম রাস্তার অবস্থা দেখে যা আমাদের যাত্রার আপেক্ষিত সময়কে ধাক্কা পৌঁছাতে শুরু করেছিল। সংস্লিষ্ট রাজ্যের সরকারদের যারপরনাই মুন্ডপাত করতে করতে আমরা এগিয়ে চললাম। ভাঙা রাস্তা, ট্রাক, ধুলো আর বিভিন্ন কলকারখানার ধোঁয়া আমাদের সঙ্গী হয়ে রইল।

দুপুর গড়িয়ে বিকালের পড়ন্ত আলোয় যখন ধোবি এসে পৌঁছলাম তখন আলো অনেকটাই কমে এসেছে, শীতের দিন এমনিতেই ছোট হয়। হাইওয়ে ছেড়ে এক সরু বাস রাস্তায় নেমে এলাম যেখান থেকে আমাদের হোটেল আরো আধ-ঘন্টার পথ। উঁচু রাস্তা থেকে দুপাশে নিচ নেমে যাওয়া জমিতে বাচ্চারা খেলছে, বসতি দোকানপাট ইত্যাদি। কিছুটা দূর যাওয়ার পরই সেই রাস্তা এতটাই খারাপ হয়ে গেল যা হোটেলের আগে অবদি ঠিক হল না। বড় বড় গর্ত, ছাল-চামড়া উঠে মাটি বেরিয়ে থাকে; শিউরে ওঠার মত ছিল যেখানে ভাঙনের দৈর্ঘে ভারী গাড়ি হেলেদুলে পার হচ্ছে। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সেই রাস্তা পার হতে মোটামুটি এক ঘন্টা লেগে গেল। যখন হোটেলের চৌহদ্দিতে গিয়ে পৌঁছলাম তখন অন্ধকার নেমেছে।

পরে জেনেছিলাম সেখানে সিক্সওয়ে লেন হচ্ছে। তবে তার আগে রাস্তার এই হাল অনেকেই স্বীকার করে নিলেন।

সেদিন রাত্রে সাময়িক আহারাদির পর বেরিয়ে পড়লাম তিবেতা্‌ন রিফিউজি মার্কেট ঘুরে দেখতে। মহাবোধি মন্দিরের সংলগ্ন এলাকায়, ওয়াট থাই মন্দিরের কাছাকাছি এই রিফিউজি মার্কেট। পরের দিন অনেক কিছু ঘোরার থাকায় রিফিউজি মার্কেটের পাট’টা এই সন্ধ্যেতেই সেরে নিতে চাইলাম। হোটেলের সামনের মোড় থেকে একটা টোটো চেপে সোজা রিফিউজি মার্কেটের মুখ অবদি যাওয়া। যাঁরা নতুন এবং পুরাতন দীঘার মাঝের দূরত্ব এবং দৃশ্যাবলী দেখেছেন, তাঁদের হয়ত বুঝতে সুবিধা হবে এই হোটেল আর মন্দির সংলগ্ন এলাকার দূরত্বটি।

তবে মার্কেট ঘুরে আশাহত হয়েছিলাম কারন সেখানে তিবেতান জিনিষপত্রাদির থেকে পোশাকআশাক-এরই মূলত সম্ভার। যাই হোক, মার্কেট থেকে বেরিয়ে রাস্তার ওপারে চলতে থাকা একটি মেলায় কিছুক্ষন কাটালাম এবং তারপর হোটেলের পথ ধরলাম।

সেরাত্রে আর কোন মন্দির/মনেস্ট্রি ঘোরার ছিল না। এখানের মন্দিরগুলি সকাল ৭ঃ০০ টা থেকে ১২ঃ০০ টা পর্য্যন্ত খোলা থাকে, এবং আবার দুপুর ২ঃ০০ টা থেকে ৫ঃ০০ টা পর্য্যন্ত। রাত্রে হোটেলে এক পরিতৃপ্ত আহারাদির পর শান্তির ঘুম।

পরের দিন

বিহারের ঠান্ডা হাড়ে বেঁধার মত, কোলকাতার মত জোরো-ন্যাকা ঠান্ডা নয়। এরকম ঠান্ডা তা বহুদিন পরেই অনুভব করলাম! এই সময়েও এখানের ঠান্ডা এতটাই কিটকিটে ছিল যখন কোলকাতার ঠান্ডা প্রায় যাবার মুখে। হোটেলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর খোলামেলায় আমরা সবাই খুশি, আর এই প্রথম বোধহয় কোথাও বেড়াতে গিয়ে হোটেলে একবারের জন্যও টিভির প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনি। হোটেলের চৌহদ্দির মধ্যে পর্যপ্ত পার্কিং স্পেস, হাঁটার জায়গা, ঘাসে মোড়া লন (যা ছেলের ছোটাছুটির জন্য আদর্শ ছিল), রসনা তৃপ্ত করা খাবারের আয়োজন এবং একজন বড়ই সাহায্যকারী ওয়েটার (মাঝে মধ্যে তো নিজেদেরই কিরম অস্বস্তি লাগছিল তাঁর সাহায্যের ঠেলায়) কিন্তু ভালো মানুষ।

চাদর-সোয়েটারে নিজেদেরকে মুড়ে আটটা নাগাদ সকালের জলখাবার সেরে আমরা বেরিয়ে পড়লাম বুদ্ধ গয়া ভ্রমনে। সাথে রইল হ্যান্ড স্যানিটাইজ্‌র আর মাস্ক – সবাইকে একরকম বাধ্যই করলাম মাস্ক ব্যবহারের জন্য। চাইছিলাম সবাই যাতে বুঝুক এই সময়ের গুরুত্বটাকে, যদিও সবথেকে বেশি বোধহয় অসুবিধা হয়েছিল আমার ছোট ছেলেটিরই। কিন্তু আমি কোন ঝুঁকি নিতে চাইছিলাম না, বিশেষ করে বুদ্ধ গয়ার মত ভিন্‌ দেশীয়দের ভিড়ে।

হোটেলের সামনে দিয়ে আবার একটা টোটো নিয়ে হাজির হলাম মন্দির এলাকায়, গতকাল এখানেই নেমেছিলাম রিফিউজি মার্কেটে যাবার জন্যে। মূল রাস্তা ট্রাফিক ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো যার ওপারে টোটো, চার-চাকা নিষিদ্ধ (যদিও ওপার থেকে আসা সীমিত পরিবহন চোখে পড়ল), আর ওই রাস্তাই চলে যাচ্ছে মহাবোধি মন্দিরের দিকে, পথিমধ্যে অন্যান্য মন্দির/মনেস্ট্রিও পড়ে। তবে আমাদের এখনই অপরপ্রান্তে যাবার ছিল না, রাস্তা পেরিয়ে ডানদিকে অপেক্ষাকৃত সরু পথ ধরলাম।

ভিন্‌ দেশীয়দের ভিড় এখান থেকেই চোখে পড়ার মত ছিল। বিভিন্ন এশিয়াটিক দেশের লোক। একটা বড় অংশ বিভিন্ন বয়সী লামাদের ছিল। অলিতে-গলিতে, রাস্তায় দোকানে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেতে লাগল।

এই সরু রাস্তাই সোজা চলে যায় গ্রেট বুদ্ধ স্ট্যাচু মন্দিরে। সরু রাস্তার অলিতে-গলিতে আরো ছোট-মধ্য সাইজের মন্দির/মনেস্ট্রি, মঙ্গোলিয়ন মন্দির, কার্মা মন্দির ইত্যাদি অবস্থিত। মাঝে মধ্যে জায়গাটিকে বিহারীয় কম মনে হতে পারে, যদিও লোকাল এবং ভিনদেশীয় কালচার সমানভাবে গড়ে উঠেছে।

পাঁচ মিনিট হাঁটতেই আমরা পৌঁছে গেলাম গ্রেট বুদ্ধ স্ট্যাচু মন্দিরের সামনে। কিছু হকার্স স্টল পেছনে ফেলে সুসজ্জিত গাছে ঢাকা লন্‌ দিয়ে এগিয়ে গেলাম বিশালাকায় ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ মূর্তির সামনে, সকালের রোদ্দুরে তখন প্লাবিত হচ্ছে চারিপাশ। ৬৪ ফুট অতিকায় বুদ্ধ ধ্যান মুদ্রায় উঁচু বাতাসে একটি পদ্মের উপর বসে রয়েছেন। সাত বছরের পরিশ্রমের ফসল এই মন্দির ১৯৮৯ সালে দালাই লামা কতৃক উদ্বোধিত। ভগবানকে ঘিরে আছেন আরো ছোট ছোট মূর্তি যাঁদের মধ্যে সরিপুত্র, সুভুতির মত প্রিয় শিষ্যরাও আছেন। বিশাল মার্বেলের বেদী যার ওপর ভগবান বসে আছেন চক্রবর্তকারে ঘোরা যায় তাঁকে। একদল ইন্দোনেশিয় ভক্তেরও সমাগম এমুহূর্তে, একজন গাইড ছোট মাইকে বুঝিয়ে যাচ্ছিলেন জায়গাটির গুরুত্ব। অধিকাংশ ভক্তেরই মুখে মাস্ক তাও কিছুটা আশঙ্কা রেখে একটু দূরত্ব বজায় রেখে চললাম, এই ভাইরাসের আবহে।

সকালের রোদ্দুরে প্লাবিত হচ্ছে চারিপাশ।
৬৪ ফুট অতিকায় বুদ্ধ ধ্যান মুদ্রায় বসে রয়েছে।
মার্বেল বেদী যার ওপর ভগবান বসে আছেন চক্রবর্তকারে ঘোরা যায় তাঁকে।
সরিপুত্র, সুভুতির মত প্রিয় শিষ্যরা ভগবানকে ঘিরে আছেন।
দুপাশে সজ্জিত গাছে ঢাকা লন্‌ দিয়ে এগিয়ে বিশালাকায় ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ মূর্তি।

ভগবান বুদ্ধের স্নিগ্ধতাকে আহরন করতে করতে বেরিয়ে পড়লাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যে, পালয়ুল নামদ্রোলিং মনেস্ট্রি। একটু এগিয়ে বাঁয়ে ঘুরলেই মনেস্ট্রির বিশাল তোরন নজরে আসে। সুসজ্জিত বাঁধানো রাস্তা, যত্নের সাথে সংরক্ষিত বাগান, এবং বিশালাকার জায়গা নিয়ে এই মনেস্ট্রি। একটু ঢুকলেই নজরে আসে রঙিন এবং সুন্দর করে সাজানো এক (বৌদ্ধ)স্তূপ।

রঙিন এবং সুন্দর করে সাজানো (বৌদ্ধ)স্তূপ।
যত্নের সাথে সংরক্ষিত বাগান।
সীমানার বাইরে চারিপাশ।

মনেস্ট্রির খোলামেলা শান্ত পরিবেশে মুহূর্তেই হারিয়ে গেলাম আমরা। রোদের আলোয় স্ফটিকের মত স্বচ্ছ লাগছিল জায়গাটিকে। কোথাও বসে অনেকক্ষন কাটিয়ে দেয়ারও কোন অসুবিধা ছিল না এরম পরিছন্নতায়। ভিড় সেভাবে ছিল না, কিছু পর্য্যটক আর লামাদেরই যা চোখে পড়ছিল, আর নৈশব্দ।

রোদের আলোয় স্বচ্ছ সুন্দর লাগছিল জায়গাটি।
কোথাও বসে অনেক্ষন কাটিয়ে দিতেও কোন অসুবিধা হত না।

সোনালী-রঙে রঞ্জিত চূড়াওলা মনেস্ট্রির দেওয়ালে আর পাঁচটা মনেস্ট্রির মতই অসংখ্য রঙিন অলঙ্করণ। তিনটে বড় মূর্তির সাথে ১০০০টি ছোট বুদ্ধ মূর্তি এখানের আকর্ষণ। পরিমিত বৈদুতিক আলো আর খিলান থেকে ছিটকে আসা সূর্য্যের আলো ভেতরে এক মায়াময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

তিনটে বড় বুদ্ধ মূর্তির সঙ্গে ১০০০টি ছোট বুদ্ধ-মূর্তি এখানের আকর্ষণ।
দ্বিতীয় বড় মূর্তি।
তৃতীয় বড় মূর্তি।
১০০০টি ছোট ছোট বুদ্ধ মূর্তি।
বৃহদায়তন দরজার তাগড়াই কড়া।

বাইরে ইতিমধ্যে রোদও চড়তে শুরু করেছে। আমরা বেরিয়ে পড়লাম পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে ঘুরে নিলাম কার্মা মন্দির, দ্যজোকো বুদ্ধিস্ট মন্দির ইত্যাদি।

ইতিমধ্যে বাইরে রোদও চড়তে শুরু করেছে।

মূল রাস্তায় যখন উঠে এলাম তখন চারিদিকে সরগরম বাজার। রাস্তার বাঁ দিকে যেমন বহু দোকানপাট রেস্টুরেন্ট খুলতে শুরু করেছে, ডানদিকের ফুটপাথ সেজে উঠছে হকারের লম্বা লাইনে, ছোট ছোট দোকানে হরেকরকম বুদ্ধগয়া স্পেশাল আইটেম। রাস্তার দুদিক দিয়ে অসংখ্য মানুষের হাঁটাচলা, এদেশীয় বিদেশিয়ো, বেটে লম্বা, ভক্ত পর্য্যটক, সব রকমেরি মানুষ। বড় রাস্তার ট্রাফিক ব্যারিকেড পেরিয়ে একটু এগিয়ে, রাস্তার ডায়ে সুসজ্জিত তোরণদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যে, ওয়াট থাই টেম্পল

রাস্তার ডায়ে সুসজ্জিত তোরন।
থাই-চারুকলার প্রত্যক্ষ নিদর্শন।
দুপাশে দুই ভয়াল প্রহরী।

১৯৫৬ সালে থাই রাজতন্ত্র কতৃক প্রতিষ্ঠিত ওয়াট থাই টেম্পল থাই-চারুকলার এক প্রত্যক্ষ নিদর্শন। সোনার টাইলে আবৃত ঢালু ও বাঁকা ছাদে থাই স্থাপর্য্য দেখবার মত। তার সাথে সুক্ষাতিসুক্ষ কাজ তো আছেই। দুপাশে দুটি ভয়াল ভয়ঙ্কর প্রহরীকে পেছনে ফেলে মঠের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালে ভগবানের একটি শান্ত খোদাই করা ব্রোঞ্জের মূর্তি চোখে পড়বে। তবে আমাদের সময়ে মঠের ভিতরে প্রবেশাধিকার ছিল না তাই আর ভেতরের দর্শন হয়ে উঠল না। ভিতরের নীরবতা পেছনে রাস্তার কোলাহলের মধ্যেও পরিস্ফুস্ট ছিল।

ভগবানের একটি শান্ত খোদাই করা বিশালাকায় ব্রোঞ্জের মূর্তি।

দোরগোড়ায় কিছুক্ষন কাটানোর পর অগত্যা আবার ফিরতে হল জনবহুল বুদ্ধগয়ার রাস্তাতে। অগুন্তি মানুষের সাথে আমরাও পা মেলালাম। ডান পাশের ফুটপাথে উঠে আসতেই হকার্সদের হরেকরকমারি আকর্ষন করল। এরপর বিভিন্ন স্টলে বারবার না দাঁড়ানোই ভার হল। কতরকমের জিনিষপত্রাদি, তিব্বতীয়, বুদ্ধগয়া মোমেন্টোস, চোখ না ফেরানো যায় এরম তিব্বতী পেইন্টিং, ব্যাগ, খেলনাপত্রাদি, কি ছিল না সেখানে। একটা বড় সময় এইসব ছোট-ছোট জিনিষের সংগ্রহে অতিবাহিত করতে করতে আমরা এগিয়ে চললাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে, চাইনীজ টেম্পল‘এর দিকে।

মূল রাস্তার ওপর পুরাতন তোরন।

মহাবোধি মন্দিরের কাছাকাছি চাইনীজ মন্দির। মূল রাস্তার ওপর তোরন পেরোতেই ভিতরে কিছুটা ফাঁকা স্থান, আর তারপরেই দুপাশের সিঁড়ি কিছুটা উঁচু প্রাঙ্গণে উঠে গেছে যেখানে মন্দিরের দরজা।

বৌদ্ধিক ভিক্ষুদের দ্বারা নির্মিত এবং ১৯৯৭ সালে সংষ্কৃত মন্দিরটি চাইনিজ স্থাপত্যের নিদর্শন রাখে। মন্দিরটি একটি ২০০ বছরের পুরাতন কৃষ্ণকায় বুদ্ধমূর্তির সংরক্ষন করে যেটি চীন থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং পবিত্র স্থান হিসাবে প্রতিষ্টিত করা হয়েছিল। এই মূর্তিটি বাদে আরো তিনটি সোনার বুদ্ধমূর্তি এখানে প্রতিষ্ঠিত। তবে আমাদের যাত্রাকালে এই মন্দিরের ভিতরেও প্রবেশাধিকার ছিল না, কেবল দরজায় দাঁড়িয়ে সেই তিন স্বর্ণমূর্তির যেটুকু দেখা যায়। শুনেছি ভিতরে বিভিন্ন ধর্মগুরুর লেখা অনেক প্রাচীন এবং দুস্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি, গ্রন্থ ইত্যাদি সংগৃহীত আছে।

তিন স্বর্ণমূর্তির যেটুকু দেখা যায়।

দেখার বেশী কিছু না থাকায় আমরা শীঘ্রই প্রস্থান করলাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে, মহাবোধি মন্দির

ভিড়ে পা মিলিয়ে হাজির হলাম মন্দিরের প্রথম প্রবেশদ্বারে। মূল মন্দির চত্বরের বাইরে বহু কোলাপ্সিবল গেট সম্বলিত প্রথম নিরাপত্তা বলয় এবং মন্দির চত্বরে ঢুকলে আরো একটি। অজস্র ভক্তের ভিড় ততক্ষনে প্রথম প্রবেশদ্বারের সামনে – পর্য্যটক, স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং ভিক্ষু সবাই লাইনে অপেক্ষায়। প্রথম প্রবেশদ্বারে ঢোকার আগে মন্দির সংলগ্ন কাউন্টারে জুতো, ফোন/ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি জমা দিতে হয়। টিকিটে স্থির এবং চলমান ফোটোগ্রাফির আলাদা চার্জ।

দ্বিতীয় চেকপোস্টে পৌঁছতে আরএক-প্রস্থ চেকিং চলল, জিনিষপত্রের এক্স-রেও হল। পাঠকগনকে এখানে বলে রাখি, ভুলেও কোন জিনিষপত্র নিয়ে এখানে হাজির হবেন না যা ইলেকট্রনিক্সের সমতুল্য। একটি ছোট রিমোট কন্ট্রোলড গাড়ি (আমার ছেলের) যা হ্যান্ডব্যাগে রাখা ছিল এবং প্রথম চেকপোস্টে তা আপত্তির কারন না হলেও দ্বিতীয়তে কোন মতেই তা নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হল না। এরপর কিছুটা নাজেহালই হতে হল আবার বেরিয়ে গিয়ে সেটা মোবাইল-জিনিষপত্রের কাউন্টারে জমা দিয়ে আসতে।

মূল মন্দিরের ব্যাস্ত প্রবেশপথে যখন এসে দাঁড়ালাম, গুচ্ছ গুচ্ছ সিঁড়ি নেমে গেছে নিচে। সিঁড়ির শেষে প্রান্তে নিচু জমি থেকে বিরাজ করছে ৫০ মিটার উচ্চ মূল মন্দির। ভগবান বুদ্ধের জীবন সম্পর্কিত চারটি পবিত্র স্থানের মধ্যে এটি একটি। সেই গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়কাল থেকে ইঁটের তৈরী মন্দির এখনো দাঁড়িয়ে আছে আর সবাইকে অবাক করছে।

নিচু জমি থেকে উঠে এসেছে ৫০ মিটার উঁচু মূল মন্দির।

বুদ্ধগয়ার এই মন্দির চত্বরটি মূল মহাবোধি মন্দির, পবিত্র বোধি গাছ এবং অন্যান্য আরো ছ’টি পবিত্র স্থান নিয়ে গঠিত যার চারপাশে রয়েছে বহু ভোটিভ স্তূপ যা অভ্যন্তরীন, মাঝারি এবং বাহ্যিক সীমানা দ্বারা সংরক্ষিত। সপ্তম পবিত্র স্থান, লোটাস পুকুর, এবং মন্দির অঞ্চল – উভয়ই দুই বা তিন স্তরে প্রদক্ষিন করা যায়। বুদ্ধের বোধিপ্রাপ্তির সঙ্গে এইসব ভোটিভ স্তূপ এবং মন্দিরের প্রভূত সম্পর্ক রয়েছে, তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বোধহয় বোধি গাছে, যার তলাতে বোধি প্রাপ্তি করেন।

পুকুর এবং মন্দির উভয় অঞ্চলই দুই বা তিন স্তরে প্রদক্ষিন করা যায়।

মন্দির চত্বরের ভিড়ে আমরা শীঘ্রই হারিয়ে গেলাম। ভিন্ দেশীয়দের ভিড় সবথেকে বেশি। বিভিন্ন ছোটবড় দলে ভাগে হয়ে তাঁরা ভগবানের আরাধনা করছেন, মন্ত্রোচ্চারন করছেন অথবা দন্ডি কাটছেন। বৌদ্ধিক ধর্মে দন্ডি কাটার পদ্ধতিটি বেশ চমৎকার, শরীরের সর্ব অঙ্গের ব্যায়াম অবশ্যাম্ভাবী। ভিন্ দেশীয়দের উজ্বল পোশাকি ভিড়ের মধ্যে দিয়ে চলে যখন বোধি গাছের কাছে পৌঁছলাম ভক্তদের ছোট ছোট গোষ্ঠী বৃক্ষের চারিপাশ ঘিরে আরাধনায় মগ্ন। চিৎকার বা চেঁচামেচি নেই, যে যাঁর মত ভগবানকে তাঁদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন, প্রেয়ার হুইল ঘোরাচ্ছেন অথবা নিম্নস্বরে মন্ত্রোচ্চারন করছেন।

মন্দির চত্বরের ভিড়ে আমরা শীঘ্রই হারিয়ে গেলাম।
ভক্তদের ছোট ছোট টুকরো চারিপাশে আরাধনায় মগ্ন।
চিৎকার চেঁচামেচি নেই।
যে যাঁর মত ভগবানকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।
মন্দিরে লাইন দিয়ে ভগবান দর্শন।

মূল মন্দিরে লাইন দিয়ে ভগবান দর্শন, এরপর হাঁটতে হাঁটতে একসময় পবিত্র লোটাস পুকুরের সামনে পৌঁছলাম। এখানের আবহাওয়া মনোরম। এপার-ওপারে দড়ি দিয়ে বাঁধা অজস্র প্রেয়ার ফ্লাগ পতপত করে উড়ছে পুকুরটির উপরে, ইতিউতি মানুষজন বসে আছেন সময় কাটাচ্ছেন, আর পুকুরের মাঝখানে বিশালকায় সর্পের ওপর বসে আছেন বুদ্ধ। জায়গাটিতে বসে পড়লে ওঠা দায়। তার সাথে বিভিন্ন মানুষের আনাগোনা ইত্যাদি দেখতে দেখতে কোথা দিয়ে সময় কেটে যায় বোঝাই যায় না।

বিশাল সর্পের ওপর বসে আছেন বুদ্ধ।
চারপাশে রয়েছে বহু ভোটিভ স্তূপ।
বৌদ্ধিক ধর্মে দন্ডি কাটার পদ্ধতিটি বেশ চমৎকার।
মন্দিরটি চারিদিক প্রদক্ষিন করে বেরনোর পথ ধরলাম।

পুকুরপাড়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে মন্দিরের একবার প্রদক্ষিন করে আমরা বেরনোর পথ ধরলাম।

মোবাইল ইত্যাদি জিনিষপত্র পুনরায় সংগ্রহের পরে যখন রাস্তায় নামলাম তখন ঘড়িতে ১ঃ৩০ ছুঁইছুঁই। পেটে খিদেটা তখন বড়ই চন্‌চনে্‌। এবারের কাজ রেস্টুরেন্ট খোঁজা। অতঃপর চাইনীজ মন্দিরের পাশে একটি রেস্টুরেন্টের খোঁজও পাওয়া গেল, সিয়াম থাই। রেস্টুরেন্টটির নৈবিদ্যের বহর বেশ লম্বা, তবে মনে হল ভারতীয়দের তেমন পোঁছে না। যাই হোক, আমাদের নৈবিদ্যটি শেষ করে বেরিয়ে এলাম আবার রাস্তায়। একটি টোটো ভাড়া করা হল পরবর্তী দুটি স্থানে যাবার জন্যে, বলা যায় এ’যাত্রার এই দুটিই শেষ স্থান।

এখন অব্দি এখানের মানুষজনের ভিড়ে করোনা নিয়ে তেমন উদ্বেগ লক্ষ্য করলাম না। সিংহভাগ মানুষই মাস্ক ছাড়া ঘুরছে, গায়ে গা মিলিয়ে। হয়ত ভারতে এখনো এর প্রকোপ সেভাবে না পড়ায় মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগের ভাগও কম। দেখলে হয়ত আমরা সেই কিছু সংখ্যক উদ্বিগ্ন মানুষ যারা সাবধানতা অবলম্বন করছি।

~

মূল রাস্তা ছেড়ে আরো গ্রাম্য রাস্তায় নেমে এলাম আমরা। ৫ মিনিটের মধ্যেই টোটো আমাদের নিয়ে গিয়ে ফেলল এবারের গন্তব্যে, মেটা বুদ্ধরাম মন্দির

সাদা রঙের প্রাচুর্য্যে সত্যিই আকর্ষনীয়।

বুদ্ধগয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্যে এটি একটি। থাই স্থাপত্যের অপূর্ব শৈলীতে তৈরি মন্দিরের বাইরের বলয়ে স্টেইনলেস স্টিলের কাজ এবং সাদা রঙের প্রাচুর্য্যে কাঁচ বসানো মোজেইক, সত্যিই আকর্ষনীয়। মন্দিরের বাঁকা ছাদেও স্টেইনলেস স্টীলের রেখা। হাতে বানানো বহু ভাস্কর্য্য যা মূলত কাদামাটি, সাদা সিমেন্ট আর এপ্রোক্সির মিশ্রনে তৈরি। থরে থরে সিঁড়ি উঠে গেছে ওপরের প্রাঙ্গণে যার শেষ প্রান্তে উঁচু বেদীর ওপর বসে আছেন স্বয়ং বুদ্ধ, শান্ত মুদ্রায় এক হাত উঁচিয়ে আশীর্বাদের ভঙ্গিমায়।

উঁচু বেদীর ওপর বসে আছেন স্বয়ং বুদ্ধ।
অনেকটা কোন হিন্দু দেবতার মত।

প্রাঙ্গণের উঁচুতে চারিদিক খোলা। এদিকটায় এখনো সেভাবে মানুষের বসতি গড়ে ওঠেনি। হাতে গোনা কিছু হোটেল, বাড়ি আর বহু খোলা ক্ষেতের জায়গা। দেখলে ভালো লাগল এরম একটা জায়গায় খোলা পরিবেশের মাঝে বসে আছেন বুদ্ধ। মূল মন্দিরের প্রবেশদ্বার এখানেও বন্ধ আমাদের জন্য।

প্রাঙ্গণের উঁচুতে চারিদিক খোলা।

বেশ কিছুক্ষন কাটিয়ে আমরা প্রস্থান করলাম আমাদের শেষ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। যাওয়ার আগে ক্লে’র তৈরি একটি বুদ্ধ বাগালাম সামনের হকার্স স্টল থেকে।

টোটোতে কয়েক মিনিটের পথ, কর্মপা মনেস্ট্রি। বেজায় বিরক্ত হলাম টোটোওলা যেভাবে রঙ চড়িয়ে দূরত্বের বর্ণনা দিয়েছিল দরাদরির সময়, তা না হওয়াতে। যাই হোক, কোন এক সংকীর্ণ রাস্তার আরো সংকীর্ন গলিতে হাঁটা পথে নেমে এলাম আমরা, এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই মনেস্ট্রির অনাড়ম্বর বিশাল তোরনের সামনে। বুদ্ধগয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তিবেতান মনেস্ট্রি এটি যার আসল নাম টেরার(Terger) মনেস্ট্রি।

কর্মপা শব্দের অর্থ যিনি জ্ঞানের আলো প্রসার করেন। তিব্বতীয় মতে এইসব জ্ঞানদীপ্ত পুরুষেরা পুনর্জন্মে পারদর্শী এবং এঁরা ফিরে ফিরে আসেন মনুষ্য সমাজের কল্যানার্থে। কর্মপসরা তিব্বতে এই জাতীয় পুনর্জন্ম লামার মধ্যে প্রাচীনতম বংশবলী, ৯০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই কর্মপসরা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কর্মফলু বংশের নেতা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান এবং ১৭ তম কর্মপা, ওগেন ত্রিনলি দর্জে ১৯৮৫ সালে পূর্ব তিব্বতে জন্মগ্রহন করেছিলেন।

১৯৫০ সাল থেকে তিব্বত দখল করে থাকা চীনা সরকার যদিও প্রথম দিক কর্মপাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, কিন্তু যথেচ্চ নজরবন্দী এবং বড় অংশে কর্মপার কার্য্যক্ষমতাকে দমন করা হয়েছিল। এইসব বিধিনিষেধগুলি যেমন তরুন কর্মপার শিক্ষার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছিল, তেমনি অন্যান্য অনুরাগী ও শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছতেও। এরপর ১৯৯৯ সালে ১৪ বছর বয়সী কর্মপার চীন থেকে সাহসী পলায়ন সারা বিশ্বে বৌদ্ধিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২০০০ সালে তাঁর ভারতে পদার্পন, দালাই লামা কতৃক অভ্যর্থনা এবং ভারতবর্ষের সরনার্থী মর্য্যাদা লাভ।

মনেস্ট্রির সাজানোগোজানো বাগান।
বুদ্ধগয়ার গুরুত্বপূর্ণ তিবেতান মনেস্ট্রি।

এরপর থেকে তিনি প্রতিবছর বুদ্ধগয়া আর সারনাথ ভ্রমন করেন এবং বার্ষিক কর্মকাগু অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন যা সারা বিশ্বের হাজার হাজার অংশগ্রহনকারীর কাছে আকর্ষনীয়। এই কর্মকাগু অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবার জন্যে এই মনেস্ট্রিকে কর্মপা মনেস্ট্রি বলা হয়ে থাকে।

মনেস্ট্রির সাজানোগোজানো বাগানে একটি ছোট কাফেটেরিয়া আর সুভেনিয়র শপ্‌ও আছে। চারিপাশে চক্কর কেটে যখন মূল মন্দিরে প্রবেশ করলাম সহজেই হারিয়ে গেলাম এর শান্ত নীরবতায়। বেশ কিছুক্ষন ঘুরলাম ছন্নছাড়াভাবে মন্দিরের আলো আধাঁরিতে, ছবি তুললাম, নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। যখন বেরিয়ে এলাম তখন দিনের পড়ন্ত আলোয় যেন আরো ভালো লাগল, এই জগতকে আমি চিনি।

হারিয়ে গেলাম মনেস্ট্রির শান্ত নীরবতায়।
ছবি তুললাম, নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
কিন্তু এই জগত আমার না।

টোটোয় চেপে এরপরে হোটেলে প্রস্থানের পথ ধরলাম।

সন্ধ্যেবেলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল আর-একবার মহাবোধি মন্দির দর্শনের, সন্ধ্যের আলোয়। পাঠকগন ইচ্ছা করলে ঘুরে আসতে পারেন সন্ধ্যের সময়েও, এইসময় ভিড় অপেক্ষাকৃত কম থাকে এবং রাতের আলোয় ও পরিবেশে মন্দিরকে দেখতেও ভালো লাগবে। রাতে হোটেলেই ডিনার সারলাম এবং সেদিনের মত এক ব্যস্তবহুল দিনের পরিসমাপ্তি করা হল।

পরের দিন খুব ভোরে যাত্রা শুরু হল কলকাতার উদ্দেশ্যে। হোটেলের আগের আধা-ঘন্টার খারাপ রাস্তাও ছিল, ভিড় শুরু হওয়ার আগেই তা পেরোতে চাইছিলাম। এরপর সারাদিনের যাত্রার পর সন্ধ্যে সাড়ে’ছটা নাগাদ বাড়ি পৌঁছনো।

সঙ্গে রইল অনেক ভালো সময়ের স্মৃতি আর অনেক ছবি।

সমাপ্ত..

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: