Ladakh14
Leave a Comment

Can tell my Mother – III Ladakh’14

খানিক্ষন বাদে নিচে গিয়ে অন্যান্যদের সাথে ডিনার সেরে আবার উঠে এসে একদম উল্টে ঘুম। সকাল চার’টের অ্যালার্ম দেয়া রইল।

~

~ ২৩শে আগষ্ট ~

সত্যি বলতে এটা হয়ত ভুলই হয়েছিল যে আমি মানালি-লেহ্‌ রোড-ট্রিপ চয়েস করেছিলাম; এটা আকাশ পথেও হতে পারত। কিন্তু কোথাও সেই পরিচিত রাস্তাতে আবার ফেরার ইচ্ছা এবং সুস্মিতাকেও সেই রাস্তা দেখাতে চাওয়া – এ সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল। বিতৃষ্ণাময় সত্য যে লাদাখ্‌ পৌঁছে ওখানেই দেখার জিনিষ এত আছে যে এই রোড-ট্রিপটাকে avoid করা যেতেই  পারে। আমি দুঃখিত যে আমি এই রাস্তাটাকেই  বেছে নিয়েছি যখন গতবার শত অভিশাপে শাপিত করেছি এ রাস্তাকে এবং এ রাস্তায় আসার জন্য। এটাতো বটেই যে আমি ভুলে গেছিলাম সেই যন্ত্রনা কষ্ট, আর এবারে যখন আমি আরো আন্‌ফিট।

ভোর ৩ঃ৪০ নাগাদ তৈরি হয়ে আমাদের ব্যাগপত্র সমেত নিচে নেমে এলাম। ঠান্ডা খুব কন্‌কনে ছিল না, তাই পাকামি করে বার্মুডাই পরে রইলাম, আর পায়ে স্যান্ডেল। বাইরের আলো তখনো সেভাবে ফোটেনি। রিসেপসনে এসে আমাদের ব্রেকফাস্ট প্যাক করে নিয়ে (যা প্যাকেজরই অন্তর্গত) এবার অপেক্ষা করা। দু’জনের কারোরই সেরম খাবার ইচ্ছা ছিল না। এর আগে রুমে চা দিয়ে আসা হয়েছে।

বাইরে কিছুক্ষন অপেক্ষার পর লাগেজ লোড্‌ করা শুরু হল বাসের পিছনের ডিগিতে। মোটামুটি সবাই বেশ ঠান্ডার জামাকাপড় পরিহিত। স্তব্ধ রাত্রির ঠান্ডার মধ্যেই, লবির সামান্য আলোতে বাস বোঝাই শেষ হতে আমরাও যে যার পূর্ব-বরাদ্দ জায়গায় গিয়ে আবার বসে পড়লাম বাসের মধ্যে। ৪ঃ১০ নাগাদ বাস হোটেলের উঁচু ঢাল থেকে আবার পাহাড়ি রাস্তায় নেমে শুরু হয়ে গেল আমাদের দ্বিতীয় এবং শেষ দিনের যাত্রা, লেহ্‌’র উদ্দেশ্যে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে, কেবল বাসের হেডলাইটের আলোয় অন্ধকার চিরে এগিয়ে চললাম আমরা। যাত্রীরা বাসের অন্ধকারের মধ্যে আরএক ঘুমের সূচনা করল।

মাথা যন্ত্রনা একটা ছিল, কিছুক্ষনের মধ্যে এটাও অনুভব করলাম কি ভুল করেছি। যদিও সব জানালা বন্ধ, কিন্তু চলার সাথে ঠান্ডাও যেন কোথা থেকে ঢুকছে। গায়ে যদিও এটা-ওটা থাকায় সেরম অসুবিধা হচ্ছে না, কিন্তু নিম্নভাগের বার্মুডা-কেবল সত্যি অসুবিধায় ফেলছে। মনে হচ্ছিল নিচ দিক দিয়ে ঠান্ডা আসছে – কিন্তু নিশ্চিত ছিলাম না কোথা থেকে। ক্রমশঃ ঠান্ডা আরো কিছুক্ষনের মধ্যে বেশ কন্‌কনে ঠান্ডায় পরিনীত হল। বলাই বাহুল্য, বুঝতে বাকি রইল না কি ভুল করেছি আমি। ঈর্ষা হচ্ছিল অন্যান্য সিটের দিকে তাকিয়ে কি সুন্দর ঘুমোচ্ছে সবাই – আর আমি —

পায়ের কন্‌কনানি এরমধ্যে এমন জায়গায় পৌঁচেছে যে কি করব কিছু বুঝে ওঠার জায়গা পাচ্ছি না; জামা-প্যান্ট-জীনস্‌ ইত্যাদি যা আছে সব পোঁটলায়, আর পোঁটলা গাড়ির ডিগিতে। গিয়ে অনুরোধ করব অন্ধকার রাস্তায় গাড়ি থামাতে, সে কানকাটা সাহসও পাচ্ছি না। মুণ্ডপাত করারই শুধু জায়গা দেখছি নিজের বোকামিকে। পা তুলে সিটের ওপর বাবুহয়ে বসে নিজের শরীরের যতটা কাছে ঢুকিয়ে নেয়া যেতে পারে, নিয়ে কোনরকমে ঠান্ডা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছি। সুস্মিতাও বুঝলাম খুব অসহায় বোধ করছে আমার এই অবস্থা দেখে, কিন্তু বেশী কিছু সাথেও নেই দু’জনের মধ্যে শেয়ার করার জন্য। ক্রমশঃ খারাপ হতে থাকে রাস্তাও এদিকে শরীরের আগাপাস্তালা ঢিলে করার কাজে নেমে পড়েছে।

ধীরে ধীরে আকাশের গায়ে দিনের আলোর ছোঁয়া দেখা দিল। কোন এক নাম-না-জানি জায়গায় এসে বাস থামল। ঠান্ডায় কাবু হয়ে যাওয়া পা’দুটোকে ছাড়ানোর জন্য নেমে পড়লাম, কিছু খাওয়ারও দরকার ছিল, ওখান থেকে যে খাবার প্যাক করে দিয়েছে খুব একটা রোচক নয়। এক ধু-ধু ভ্যালির মধ্যে কোন এক নোমাডিক ল্যান্ডে এসে দাঁড়িয়েছি আমরা। যেখানে বাস থেমেছে, তার পাশে কিছু বড়-ছোট তাঁবু; তাঁবুর মধ্যেই বসতবাড়ি, দোকান-পাট, রেস্টুরেন্ট। তাঁবুর ভেতর যথেষ্ট উষ্ণ এবং আরামদায়ক। এরি মধ্যে একটা তাঁবুতে সাজিয়ে রাখা বিছানায় আয়েস করে বসে দু’টো ম্যাগির অর্ডার দেয়া হল। বাইরেতে বেশ কন্‌কনে ঠান্ডা।

dsc_0242

নোমাডিক বিশ্রামস্থল

dsc_0245

ট্যুরিস্ট বাহন

এরমধ্যে একবার চেষ্টা করলাম গাড়ির খালাসীর সাথে কথা বলে কিছু জামাকাপড় বের করা যায় কিনা ডিগি থেকে। আমার আবদার শুনে ভদ্রলোক একটু বিরক্ত হলেন, উল্টে কিছু জ্ঞানও দিয়ে দিলেন। আমি কথা না বাড়িয়ে তিক্ত মুখে ফেরার পথ ধরলাম, দোষটা আমারি।

গরম গরম ম্যাগির পর আবার বাস চলতে শুরু করেছে। রাস্তার ক্রম-নিম্নমান অবস্থা আমার ওপর আবার হাবি হতে শুরু করেছে।

লাঞ্চের জন্য বাস কোথাও থামতেই আমি নেমে পড়লাম। শরীরের সমস্ত অস্বস্তি যেন নির্বিসহ করে তুলেছে এই যাত্রাকে। খাওয়া তো দূরের কথা, নোমাড হোটেলগুলোর পেছনে কোথাও গিয়ে বমি করে এলাম। আমার অবস্থা আন্দাজ করে হোটেলের মহিলা, যাঁর হোটেলে এসে নেতিয়ে বসেছি, রসুন-গরমজল দিলেন, “খেয়ে নিন, সিক্‌নেসে সাহায্য করবে।” সেটা গলায় ঢেলে, এককাপ চা আরো ঢেলে ধন্যবাদ দিয়ে গাড়িতে আবার উঠে আসি। আবার সেই ক্লান্তিকর যাত্রার শুরু। নিয়মমত একটু একটু করে জল গলায় ঢেলে যাচ্ছি যাতে অক্সিজেনের অভাব না হয়।

এদিকে শরীরের অবস্থা খারাপ থেকে খারাপ হচ্ছে যত বাসের ঝাঁকানি এগিয়ে চলেছে। রাস্তারও যেন শেষ নেই। দেখে ঈর্ষা বাড়তে লাগল অন্যান্যরা কেমন দিব্যি বসে আছে কিন্তু আমি! এর মধ্যে এটা একটা ভালো যে সুস্মিতা এখনও অনেক শক্ত আছে, যেখানে আমি ভাঙতে শুরু করেছি ভেতর ভেতর। উল্টে ও আমাকে উজ্জিবীত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে একটানা, বুঝতে পারছি কতটা অসহায় বোধ করছে ও আমাকে এরকম অবস্থায় দেখে।

dsc_0224

পরিচিত উপজাতির দল এখানের

dsc_0252

উজ্জ্বল স্বচ্ছ দিন কেবল আমি ছাড়া

বাসের ঝাঁকানি আর শরীরের অবস্থা একটা সময় এমনই জায়গায় পৌঁছল যে বাসে আর বসে থাকা যাচ্ছিল না। দরজার দিকে তাকিয়ে নিজের আবেগগুলো কোনরকমে আটকাচ্ছি, কারন দরজা খুলে ঝাঁপ এমুহূর্তে সম্ভব নয়। সুস্মিতাও এবার বসে থেকে পিঠের ব্যাথার সম্মুখীন হচ্ছে। পিছনের খালি সীটে খানিক্ষন পড়ে থাকার চেষ্টা করা সত্তেও বাসের ঝাঁকানি সেটাও করতে দিল না। পিছনের সীটের ঝাঁকানি যেন আরো কষ্টকর। এর সাথে মুষড়িয়ে দেয়া মাথা যন্ত্রনা সঙ্গ নিয়েছে, গা গুলিয়ে উঠছে। অবশেষে একটা প্যাকেটের মধ্যে সব উল্টিয়ে দিলাম।

অপ্রস্তুত লাগছিল, কিন্তু অনেকেই এগিয়ে এল কোনভাবে সাহায্য করার জন্য। সুস্মিতা যতটা সম্ভব আমাকে আগলে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে আমি একটু ভালো বোধ করি।

ক্রমশঃ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s