North Bengal, Photologue, Sandakphu
Leave a Comment

Photologue: Sandakphu – IV

আমি অ্যাকাউন্টস, অয়ন রুম ম্যানেজার এবং খাবারের অর্ডার, শমীক সকালের অ্যালার্ম এবং জল পরীক্ষক (basically Ziolin ছাড়া জলের পরিপন্থী) – মোটামুটি এই হয়ে গেছে আমাদের এখনকার রোল, সবার। তো এবারেও তার কিছু পরিবর্তন হল না, শমীক সকাল সকালি তুলে দিল আমাদের দু’জনকে। কম্বল ছেড়ে বেরিয়ে আসাটা প্রবলেম হয়ে গেছিল এমন ভোরে।

ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টি – এই ছিল আজকের সকালের আবহাওয়া। প্যাচপ্যাচে বৃষ্টিতে বাইরের পরিবেশও কাদাময় হয়ে গেছিল ছোট্ট পাহাড়ি জায়গাটাতে। যদিও পাথুরে রাস্তা বেয়ে আবার সব বয়েও যাচ্ছিল। সব থেকে শিহরনের ঘটনা ঘটল বোধহয় আজ এই সকালের ট্রেকার্স হাটের বাথরুম যাওয়াতে। একেবারে ধারের একটি রুম এখানের বাথরুম, একটা দরজা (অবশ্যই) কোনরকমে, একটা বড় হাঁ করা জানলা, কোন গারদ নেই কোন পাল্লা নেই, পাহাড় নেমে গেছে জানলার অপর প্রান্তে.. হু হু করে ভিজে হাওয়া ঢুকছে সেখান থেকে বাথরুমে। বেশীক্ষন থাকাই সেখানে বোঝা হয়ে গেছিল, কিন্তু যেটুকু না থাকলেই নয় সেটুকু থেকে ঠান্ডার আছাড় খেতে খেতে কোনরকমে বেরিয়ে এলাম তারপরে। ওহ, কি বাথরুম রে বাবা!

ভোরের কালাপোখরি

ভোরের কালাপোখরি

কিছু পরে প্যাচপ্যাচে বৃষ্টি থেমে সূর্য্যের আলো বেরিয়ে পড়ল চারিদিক আলো করে। এর মধ্যে আমাদের জামা-কাপড় পড়া হয়ে গেছিল। ব্রেকফার্স্ট হচ্ছে, আমরা কাছাকাছি দেখার মত কিছু আছে কিনা বলাতে পিটার আমাদের নিয়ে চলল। চারিদিকে দিনের সূর্য্যের আলো তখন চক্‌চক্‌ করছে, ভিজে রাস্তাঘাট, গাছপালা রোদের আলো পড়ে চক্‌চক্‌ করছে। ঘাসের ওপর এখনো জল জমে আছে। আমরা একটু উঁচু জায়গায় উঠে চললাম, পিটার আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল, কোন রাস্তা নেই গাছপালা মাড়িয়ে মুড়িয়ে ওপরের দিকে উঠলাম আমরা।

গাছপালা মুড়িয়ে উঠে চললাম ওপরে

গাছপালা মুড়িয়ে উঠে চললাম ওপরে

ওপরে কোন সর্পদেবতার একটা ছোট্ট মন্দির, আমরা খানিক্ষন সেখানে সময় কাটালাম।

সর্পদেবতার গুহা

সর্পদেবতার গুহা

এই উচ্চতায় থেকে কালাপোখরি গ্রামটাকে মোটামুটি বেশ ভালোভাবেই দেখা যাচ্ছিল। দূরে পাহাড়ি শৃঙ্খলা, ভাসমান মেঘ, চক্‌চকে রোদ, সবি বড়ই মনোরম দৃশ্য লাগছিল তখন। আমরা দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তুললাম। কিছুক্ষন নির্বাক সময় কাটানোর পর এবার নামবার পালা।

কালাপোখরি গ্রাম উচ্চতা থেকে

কালাপোখরি গ্রাম উচ্চতা থেকে

কিছুক্ষন নির্বাক সময় কাটানোর পালা

কিছুক্ষন নির্বাক সময় কাটানোর পালা

গ্রুফি - আরএক সোলো ট্রেকার এবং তার পোর্টারের সাথে আমরা

গ্রুফি – আরএক সোলো ট্রেকার এবং তার পোর্টারের সাথে আমরা

হোটেল সিঙ্গালিলায় ফিরে চাউমিন দিয়ে ব্রেকফার্স্ট। এরপর আমরা আমাদের লোটা-কম্বল নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়লাম আমাদের আজকের উদ্দেশ্যে – সান্দাকফু!

শেষ বারের মত ভোরের কালাপোখরিকে বিদায় জানানো

শেষ বারের মত ভোরের কালাপোখরিকে বিদায় জানানো

এবং তল্পিতল্পা গুটিয়ে আবার বেরিয়ে পড়া

এবং তল্পিতল্পা গুটিয়ে আবার বেরিয়ে পড়া

কিছুক্ষনের মধ্যেই আবার সেই পাহাড়ি পথে উঠে এসেছি আমরা। পিটার শমীকের রাকস্যাকটা বইছে, আর আমার ট্রাইপডের ব্যাগটা শমীকের সঙ্গী হয়েছে। অয়ন এখনো কাতর ওর গতকালের পায়ের ব্যাথা নিয়ে, শমীক আর অয়ন তাই comparatively স্লো পেসে্‌ই এগিয়ে আসছে। রাস্তাও কিছুক্ষনের পরেই আবার নিজের রূপ ধরতে শুরু করে দিয়েছে – আঁকাবাঁকা রোড ৪৫ ডিগ্রী খাড়াইয়ে ওপরে উঠে গেছে। একটা বাঁক থেকে আর একটা বাঁকে উঠে আসতেই শরীরের দম যেন বেরিয়ে আসছে, হার্ট খুলে মুখে উঠে আসছে মনে হচ্ছে। যদিও পথের চারিদিকের দৃশ্য খুবি মনোরম, চোখ জুড়ানো।

xx

জানিনা কতক্ষন চলেছি কিন্তু কিছুক্ষন চলার পরে আবহাওয়ার রূপ পাল্টাতে শুরু করল। থাক্‌ থাক্‌ কুয়াশা মাঝে মধ্যেই খেলে যাচ্ছে এখানে সেখানে। পাহাড়ের নিচে কুয়াশা বা মেঘ জমেছে, দূরের দৃশ্য আর ততটা পরিষ্কার নয় কুয়াশার জন্যে। আমার পিঠের বোঝাটা আবার কাঁধে চেপে বসতে শুরু করেছে, তারপর এই চশমা – বারে বারে খুলে চোখ-মুখ চশমা মুছতে হচ্ছে। আগের দিনের বৃষ্টি দেখে আজকেও গায়ে উইন্ডচিটারটা চড়াতেই হল, সেটাও এখন গরম দিচ্ছে। তবে অয়ন আর শমীককে দিব্বি লাগছে, ওরা ওদের নিজেদের পেস্‌-এ ধীর পায়ে চারিদিকের শোভা নিতে নিতে গল্প করতে করতে দিব্বি উঠে আসছে, কোন তাড়া নেই কোন এক্সট্রা জোর নেই শরীরকে, আমরাই যেন হু হু করে কোন এক নেশার বশবর্তী হয়ে ছুটে চলেছি; হয়ত কিছুটা একরোখাপনই – আমি একটা বাঁক থেকে আর একটা বাঁকে কোন বিশ্রাম নিচ্ছি না, দাঁতে দাঁত চিপে কুত্তার মত হাঁফাতে হাঁফাতে উঠে যাচ্ছি। তারপর পৌঁছে সেই বাঁকে রাস্তার ধারের পাথরের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছি। জানিনা এটা কতটা ঠিক, খুব বেশী সময় রেস্টও নিচ্ছি না, কিন্তু ওঠার একটা রোখ যেন চেপে বসেছে, আর উঠতেও হবে, তাই উঠেই যাচ্ছি.. অয়ন আর শমীক সেখানে অনেক লাইট পেসে্‌ নিজেদের মত করে উঠে আসছে। পিটার আর আমাকে মাঝে মধ্যেই একটু দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে ওদের জন্যে।

আকাশের মতিগতি বোঝা ভার। কুয়াশার সাথে এবারে জোগ হয়েছে সাঁই সাঁই করে বয়ে চলা দমকা হাওয়া। আর এ হাওয়ার আওয়াজও সেরকম! যদিও ঠেলে ফেলে দিচ্ছে না, কিন্তু হাওয়ার জোর প্রচন্ড, মাথার হুড টেনে কোনরকমে মুখ গুঁজে ওপরে উঠে আসতে হচ্ছে। হাঁটার চোটে নৈশর্গিক দৃশ্যও আহরন করা ভুলে গেছি, বুকে হাপরের মত হাঁফ টানতে টানতে সব কিছু ভুলে যাচ্ছি। যেখানে বসছি একটু জিরিয়ে নেয়ার জন্যে, সেখানেও খুব একটা ভালো লাগছে না, আর চারিদিক এমনিতেও ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে এবার..

ঘন কুয়াশা আর ঝোড়ো হাওয়ায় কিছু দেখাও ভার

ঘন কুয়াশা আর ঝোড়ো হাওয়ায় কিছু দেখাও ভার

মাঝে মাঝে পাস থেকে beast powered ল্যান্ড রোভারগুলো হুরহুর করে উঠে যাচ্ছে বা নেমে আসছে ওপর থেকে। কিছু আরো ট্রেকার্সও আমাদের সাথেই রাস্তায় আছে। একটা ফ্যামিলিও দেখছি ট্রেক করছে, সম্ভবতঃ সাউথ ইন্ডিয়ান। একটা ছোট মেয়ে আর ছেলেও আছে। ছোট ছেলে মেয়েটাকে দেখে খালি আশ্চর্য্য হচ্ছি আর ভাবছি এরা কেমন দিব্যি উঠছে, মুখে কষ্টের লেশমাত্র নেই! আর আমার এই অবস্থা..!

অগত্যা এভাবেই লড়কে ঝরকে ক্রমশঃ আমরা উঠে চলেছি। মাঝে মধ্যেই দৃষ্টি আবঝা করে দিচ্ছে ঘন কুয়াশা, আর সাথে হু হু করে বয়ে চলা ঠান্ডা হাওয়া তো আছেই। রাস্তার পাশে রোডোড্রেনড্রনের বন, মাথা উঁচু করে আছে, আঁকা বাঁকা পাথুরে এমনকি মাটির রাস্তাও আমরা অতিক্রম করছি এভাবেই।

পাথর এবং মাটির কোন রাস্তাই বাদ ছিল না

পাথর এবং মাটির কোন রাস্তাই বাদ ছিল না

এক জায়গায় বসে অয়ন আর শমীকের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কাঁপুনি দেয়া ঠান্ডা হাওয়া আমাকে গ্রাস করেই নিচ্ছিল। হয়ত ঠকঠক করে কেঁপেও ছিলাম বসে বসে, নিজের অজান্তেই। কিছুক্ষন বাদে অয়ন আর শমীক উঠে এসে আমাকে আবার চাঙ্গা করল নাড়িয়ে পিঠে থাপ্পড় মেরে, আবার দাঁড় করিয়ে দিয়ে। আবার উঠতে শুরু করেছিলাম তারপর আমরা তিনজনে।

এক অদ্ভুদ ফীলিং ক্রমশঃ ঘিরে ধরছিল আমায় উঠে আসবার সময়। পিঠের ভারি বোঝাটা কামড়ে বসেছে ততক্ষনে আরো দু কাঁধের ওপর, যেন আরো ভারি হয়ে গেছে শরীরের বোঝাগুলো। পা টেনে টেনে, ক্রমশঃ এক এক পা করে করে এগিয়ে যাওয়াটাই একমাত্র পথ ছিল, না ফেরার উপায় না কোথাও থেমে যাওয়ার উপায়, সামনেতেই একমাত্র পথ তখন। ক্রমশঃ একটা রাগ দুঃখ আমায় ঘিরে ধরছিল তখন – কেন মরতে এখানে এসেছি আমি, কি করছি আমি এখানে, পয়সা খরচা করে আমি এখানে হাঁটতে এসেছি! এর থেকে এই পয়সায় অন্য কোথাও গিয়ে দিব্বি দু’তিন দিনের 3 Star হোটেলে ফুরফুরে হলিডে স্পেন্ড করতে পারতাম! আর আমি এখানে এত পয়সা খরচা করে হাঁটতে এসেছি কষ্ট করে! কি করছি কি আমি..! শুধু মনে হচ্ছিল কখন গিয়ে পৌঁছাব।

শেষের দিকের রাস্তা পুরোপুরি আমাদের আকৃষ্ট করে রাখল ঘন রোডোড্রেনড্রনের জঙ্গল, রাস্তাকে দু’দিক দিয়ে ঢেকে রাখা গাছের সারি, হু হু করে বয়ে চলা হাওয়ার তোড়ে গাছের পাতাগুলো ঝুঁকে পড়ছিল এদিকে ওদিকে, গাছের পাতাগুলো সাদা হয়েছিল না ঝোড়ো হাওয়াতে আমার এরম মনে হচ্ছিল জানি না..

রোডোড্রেনড্রনের বন

রোডোড্রেনড্রনের বন

চলার পথে কিছুক্ষন আকৃষ্ট করে রাখল এই বন

চলার পথে কিছুক্ষন আকৃষ্ট করে রাখল এই বন

পথের শেষ কোথায়

পথের শেষ কোথায়

gap

একটা ছোট গ্রাম এটা, সান্দাকফু। বেশ কিছু ট্রেকার্স হাট নিয়ে, কিছু লোকালদের বসতি নিয়ে এই গ্রামটি। মোটেও খুব একটা বড় বলা যায় না, একটু উঁচুতে দাঁড়িয়ে বোধহয় পুরো গ্রামটাকেই দেখে নেয়া যেতে পারে এখানে। বেশ বড় বড় টিনের চালার ট্রেকার্স হাটগুলো এখানে। একটু বেশী পয়সা দিলে আবার একটু বেটার-ও হাট আছে। বেশীরভাগ হাট একইরকম দেখতে, লাল রঙের টিনের চালের ওপর বড় বড় করে লেখা হাটের নম্বরগুলো দেখা যায় – আমাদের হয়েছে Hut-A.

সান্দাকফু - প্রথম নজরে

সান্দাকফু – প্রথম নজরে

সরু লম্বা করিডর বেয়ে একদম শেষের দু’টো রুম আমাদের জন্যে হল। ড্‌বল শেয়ারিং-এ এক একটা রুম। অয়ন আর শমীক একটা রুমে, আমি আর একটা তে, আমার সাথে সঙ্গী হয়েছে সেই সোলো ট্রাভেলর যে ফালুট পর্য্যন্ত যাবে বলছিল, যে আমাদের সাথে কালাপোখরিতেও থেকেছিল।

আমরা ক্লান্ত থাকার দরুনও মাল-পত্র রেখে বাইরে বেরিয়ে আসলাম, ঢোকার মুখে হাটের কিচে্‌নে খাবারের অর্ডার দিয়ে আসা হয়েছে ক্লান্ত শরীরগুলোর জন্য, তাই আর কেউ বসে থাকতে পারলাম না। আর এমনিতেও এরম জায়গায় এসে ঘরে বসেও থাকা যায় না। বেলা শেষের আলো এখনো আছে, আর হয়ত কয়েকঘন্টা। মহা উৎসাহে গোগ্রাসে আমাদের খাবারের প্লেটের ওপর বসে গেলাম। অতি উৎসাহের দরুন এবং কয়েকদিন ধরে মসালাদার খাবার না পাওয়ার দরুন অয়ন আর শমীক ফ্রায়েড রাইসের অর্ডার দিয়েছিল, ফ্রায়েড এগ’এর সাথে। ওদের শুনেই জিবে জল এসে গেছিল ওরা এরম একটা জায়গায় এরম একটা খাবারের আশা করেনি। যাইহোক, আমার কাছে আর বেশী কিছু অপশনও ছিল না, ক্লান্তও ছিলাম, দেখাই যাক কিরম হয় ভেবে আমিও সায় দিয়েছিলাম।

খুব একটা পরিচিত ফ্রায়েড রাইস বা রসনাদায়ক খাওয়া হল বলব না, প্রচুর মসলাদার হল খাওয়াটা, ঠিক লাগল না কোথাও একটা। আমরা কাছাকাছির জায়গা ঘুরতে বেরিয়ে পড়লাম খেয়ে দেয়ে, যেটুকু দিনের আলো utilize করা যায়।

পিটার আমাদের নিয়ে এল কাছাকাছির একটা মন্দিরে, শিব এবং আরো কোন একটা ঠাকুর ছিল ঠিক বুঝলাম না।

নিকটবর্তী মন্দিরের চত্বরে

নিকটবর্তী মন্দিরের চত্বরে

হাওয়া চলছিল তখন উন্মাদের মত, মন্দিরের চারিদিকে বাঁধা মন্ত্রপূত পতাকাগুলো উড়ছিল হু হু করে, যেন এই বুঝি সুতো ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়।

অদূরবর্তী মন্দিরের আশপাশ

অদূরবর্তী মন্দিরের আশপাশ

গাছের ডালগুলো নুয়ে নুয়ে পড়ছিল ঝড়ের মুহূর্মুহূ ধাক্কায়।

ঝড়ের ধাক্কায় নুয়ে পড়া গাছ

ঝড়ের ধাক্কায় নুয়ে পড়া গাছ

আরো একটু এদিক ওদিক ঘুরে আমরা সান্দাকফুর ফেমাস ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আসলাম। শরীর যদিও দিচ্ছিল না, কিন্তু তাও একে ওপরকে উৎসাহ দিতে দিতে উঠে এলাম ওপরে। কিন্তু হায়.. ঘন কুয়াশায় চোখের সামনের প্রকৃতি ঢেকে আছে।

সান্দাকফুর ওয়াচ টাওয়ার

সান্দাকফুর ওয়াচ টাওয়ার

শুধু কিছু ঘরে ফেরা পাখির দল ছাড়া সেই কুয়াশায় আর কিছুই চোখে পড়ল না।

ঘরে ফেরা পাখির দল

ঘরে ফেরা পাখির দল

হাট-এ ফেরার পর থেকে শরীরটাও একটু বিগড়তে লাগল।

gap

টিমটিমে আলোয় আলোকিত করিডরটা, অনেক খুপরি খুপরি রুম এই ট্রেকার্স হাট-এ। বেশীরভাগ ফরেনার ট্যুরিস্টরাই ভর্তি। আমার শরীরটা ক্রমশঃ বিগড়চ্ছে। মসলাদার ফ্রায়েড রাইস তার কাজ করে গেছে। ডিম আলোয় আধা আলোকিত রুমটার মধ্যে আমি শুয়ে থাকাই শ্রেয় মনে করলাম। কিছু করারও ছিল না কাজ আর শরীরও দিচ্ছিল না। আগামীকাল সকালে ফালুটে ওঠার ইচ্ছাটাও ধীরে ধীরে ভাঙছিল কোথাও। রুমে দু’টো ছোট ছোট সিঙ্গল বেড, মাঝখানে একটু হাঁটার মত জায়গা, মাল-পত্র এখানে ওখানে গাঁট করে রাখা আছে (মাল-পত্র বলতে আমাদেরই ব্যাগপত্র)। পা যেন কামড়াচ্ছে ব্যাথায়, পেশীগুলো ছেড়ে দিয়েছে পুরো, আর তারপর এই অস্বস্তি.. অল্টিচুয়ড সিক্‌নেস বললেও আমি জানি এটা ওই ফ্রায়েড রাইস না খেলে হয়ত হত না। বাইরে অবিরাম ঝড় বয়ে যাচ্ছে যেন কিসের আর্তনাদ করে।

সারা সন্ধ্যেটা একটা ঘোরের মধ্যে যেন পড়ে রইলাম বিছানায়। শরীর ভাল লাগছিল না, খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। পিটার এসে আমার অবস্থা শুনে ওদের লোকাল গরম রসুন দেয়া জল এনে দিল, বলল অল্ট সিক্‌নেসে সাহায্য করবে। রাত্রে আর আমার খাওয়ার অবস্থাও ছিল না। আমি মোটামুটি খালি পেটেই শুয়ে পড়লাম। খুব অস্বস্তির মধ্যে কাটল রাতটা, আধা ঘুম জাগরনে। রাত্রে জানলায় কিসের সব শব্দ শুনে চমকে চমকে উঠলাম, কিসের যেন খসখসানি, আর বাইরে হাওয়া আর প্রকৃতি যেন ফুঁসছে, হুইসল দিয়ে ঝড় চলল সারা রাত। আগামীকাল সকালে আমাদের জন্য কিছু অপেক্ষা করছে।

ক্রমশঃ..

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s